ম্যাচের শুরু থেকেই জাপান দেখিয়ে দেয় তারা শুধু রক্ষণভাগে ব্যস্ত থাকবে না। সুযোগ পেলেই দ্রুতগতির আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেছে এশিয়ার দলটি। সেই কৌশলেই প্রথমার্ধে এগিয়েও যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রায় ৪০ গজ দৌড়ে অসাধারণ এক গোল করেন কাইশু সানো। জাপানের গতি ও প্রেসিংয়ে প্রথমার্ধে বেশ অস্বস্তিতে ছিল ব্রাজিল
বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২–১ গোলের জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষদিকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের শেষ ষোলো। তবে জয় পেলেও এ ম্যাচ ছিল সতর্কবার্তা। আর হারলেও সাহসী ও গতিময় ফুটবল দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাপান।
ম্যাচের শুরু থেকেই জাপান দেখিয়ে দেয় তারা শুধু রক্ষণভাগে ব্যস্ত থাকবে না। সুযোগ পেলেই দ্রুতগতির আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেছে এশিয়ার দলটি। সেই কৌশলেই প্রথমার্ধে এগিয়েও যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রায় ৪০ গজ দৌড়ে অসাধারণ এক গোল করেন কাইশু সানো। জাপানের গতি ও প্রেসিংয়ে প্রথমার্ধে বেশ অস্বস্তিতে ছিল ব্রাজিল।
বিরতির পর অবশ্য চেনা ছন্দে ফেরে কার্লো আনচেলোত্তির দল। একের পর এক আক্রমণে জাপানকে নিজেদের অর্ধে আটকে ফেলে তারা। কাসেমিরো সমতা ফেরানোর পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ব্রাজিলের হাতে। তবু অনেক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোল করে ব্রাজিলকে স্বস্তির জয় এনে দেন।
তবে এ জয়েও ব্রাজিলের কয়েকটি দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে কার্যকারিতার অভাব চোখে পড়েছে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে আটকে দেয়ার জন্য জাপান প্রায় প্রতিবারই দুই বা তিনজন ফুটবলারকে দায়িত্ব দেয়। ফলে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অস্ত্র কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ভিনিসিয়াস যখন নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেননি, তখন অন্যদের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত সাড়া মেলেনি।
শুরুর একাদশে থাকা রায়ানও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নেমে এনদ্রিক ও মার্তিনেল্লি আক্রমণে গতি ও প্রাণ ফেরান। শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলও আসে মার্তিনেল্লির পা থেকে। তাই নকআউট পর্বের আগে আনচেলোত্তিকে আক্রমণভাগের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে। শুধু ভিনিসিয়াসের ওপর নির্ভর করলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
জাপানও এই ম্যাচে প্রমাণ করেছে, তারা এখন আর শুধু এশিয়ার শক্তিশালী দল নয়, বিশ্বমঞ্চেও বড় দলগুলোর জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। প্রথমার্ধে তাদের দ্রুতগতির আক্রমণ ও সাহসী ফুটবল ব্রাজিলকে বেশ বিপাকে ফেলেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ায় সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে যাওয়ার সুযোগই কাজে লাগিয়েছে ব্রাজিল।
শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ব্রাজিল বুঝে গেছে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। জাপানের বিপক্ষে জয় তাদের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছে—শিরোপার পথে এগোতে হলে আক্রমণে আরো ধারালো ও বহুমুখী হতে হবে সেলেসাওদের।
