এক লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল কিনছে সরকার

শেয়ার করুন

গত এক এপ্রিল ‘আরব গালফ’ পরিশোধিত তেলের দাম প্রকাশ করে। যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ২৩৮ ডলারেরও বেশি, সেখানে বাংলাদেশ আমদানি করছে মাত্র ৭৫.০৭ ডলারে।


ছবি :সংগৃহীত
গত এক এপ্রিল ‘আরব গালফ’ পরিশোধিত তেলের দাম প্রকাশ করে। যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ২৩৮ ডলারেরও বেশি, সেখানে বাংলাদেশ আমদানি করছে মাত্র ৭৫.০৭ ডলারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজাখস্তান থেকে প্রতি ব্যারেল ৭৫.০৬ ডলার দরে এক লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ছুটির দিনে বিকেলে অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অনুমোদনের বিষয়টি টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান।
কাজাখস্তানের ‘কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি’ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারদরের অর্ধেকেরও কম দামে এই তেল আমদানি করছে সরকার। কোম্পানিটি থেকে ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব থাকলেও ক্রয় কমিটি আপাতত এক লাখ টন আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
গত ০১ এপ্রিল ‘আরব গালফ’ প্রকাশিত পরিশোধিত তেলের দাম যেখানে ছিল ২৩৮ ডলারেরও বেশি, সেখানে বাংলাদেশ আমদানি করছে মাত্র ৭৫.০৭ ডলারে। এছাড়া, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ‘আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে ২ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সিরাজ উদ-দৌলা খান জানান, কাজাখস্তান, দুবাই ও ওমান থেকে আরও ১৫ লাখ টন ডিজেল ও এক লাখ টন পেট্রোল আমদানির দুটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করলেও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করেনি। এর মধ্যে দুবাই থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল ও এল লাখ টন পেট্রোল, কাজাখস্তান থেকে আরও ৪ লাখ টন ডিজেল ও ওমান থেকে এক লাখ টন ডিজেল আনার প্রস্তাব ছিল।
ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য সার-সংক্ষেপে জ্বালানি বিভাগ বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও ফ্রেইট রেটে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে, বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও মূল্যচাপ বাড়াচ্ছে।’
সার-সংক্ষেপে আরও বলা হয়েছে, ‘বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে আমদানি লাইন-আপ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড’ এপ্রিল মাসের কিছু নির্ধারিত পার্সেল সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ (অপরিহার্য বা নিয়ন্ত্রণাতীত পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে।’
এ প্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ও স্থিতিশীল রাখার জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম হিসেবে বিকল্প উৎস থেকে জরুরি ভিত্তিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরিভাবে তেল আমদানি করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। তবে মজুদ কম থাকায় রাজধানীসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল-অকটেনের জন্য প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলগুলোকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *