ফ্রি লিচু খাবেন? চলে যান পাবনায়

শেয়ার করুন

ছবি: সংগৃহীত।
গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় লিচু। ছবি : সংগৃহীত
জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুরে গাছের ডালে ডালে ঝুলছে থোকা থোকা লাল টকটকে রসাল লিচু। চারদিকে ম ম করছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। তবে এই বাগানের চিত্র দেশের আর দশটি বাণিজ্যিক বাগানের মতো নয়। নেই কোনো পাহারাদার, নেই লাঠি হাতে তাড়া করার ভয়। এমনকি পাখি তাড়ানোর জন্য দেওয়া হয়নি কোনো জাল বা নেট।
যে কেউ আসছেন, নিজের হাতে গাছ থেকে লিচু পেড়ে তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছেন। আর এর জন্য পকেট থেকে দিতে হচ্ছে না একটি টাকাও।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের এই অনন্য ও ব্যতিক্রমী লিচু বাগানের গল্প যে কোনো রূপকথাকেও হার মানায়। প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ২০০ গাছের এই বিশাল লিচু বাগানটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এলাকাবাসী, হতদরিদ্র মানুষ, দর্শনার্থী এবং পশুপাখিদের জন্য।
এই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের মানুষটি হলেন পাবনা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীম। তিনি শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের ‘কিমিয়া সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারী এবং পাবনা কলেজের কৃষি বিষয়ের শিক্ষক।
প্রায় দেড় যুগ (১৮ বছর) আগে পৈতৃক ও নিজস্ব অর্থায়নে কেনা জমিতে এই বাগান গড়ে তোলেন তিনি। শুরুর দিন থেকেই তার লক্ষ্য ছিল এই বাগানের একটি লিচুও তিনি বিক্রি করবেন না।
সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ লিচু খাচ্ছেন। স্থানীয় গ্রামবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, নিজ হাতে গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়ার আনন্দই আলাদা। বিশেষ করে এলাকার দরিদ্র ও শিশু-কিশোরদের জন্য এই বাগান এক পরম আনন্দের জায়গা।

বাগানের পরিচর্যাকারীরা জানান, ‘স্যার (মোস্তফা জামাল শামীম) কড়া নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন, কেউ যেন লিচু খেতে এসে বাধা না পায়। মানুষ তো খাবেই, সেই সঙ্গে কাঠবিড়ালি বা পাখিরা যেন মনের সুখে ফল খেতে পারে, সেজন্য কোনো সীমানাপ্রাচীর বা জাল ব্যবহার করা নিষেধ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *