
সূত্র :আল জাজিরা। ছবি ;সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এ সংঘাতে স্কুল, হাসপাতাল, আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টসহ নানা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইরানের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের প্রথম দিনই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মিসাইল হামলা হয়। এতে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়েসহ অন্তত ১৭০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার দায় অস্বীকার করলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা বলছে, হামলায় সম্ভবত মার্কিন তৈরি টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত ও হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি ইরানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইসফাহানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে রোববার ইরান কুয়েতের একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এসব দেশ পানীয় পানির জন্য মূলত সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণের ওপর নির্ভরশীল।