শাকিবের জন্মদিনে স্ট্যাটাস অপু-বুবলীর

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের বিনোদন জগতে ২৮ মার্চ। তারিখটা বললেই বোঝা যায়, আজকের মূল প্রতিযোগিতা কোনটার ওপর। ভুল করেও কেউ ভাববেন না, আমি ক্রিকেট ম্যাচের কথা বলছি বা কোনো টেলিভিশন রিয়েলিটি শোর কথা বলছি।
আজকের ইভেন্টের নাম- ‘শাকিবের জন্মদিনে কে ফাস্ট’।হ্যাঁ, স্টার্টিং লাইন থেকে দৌড় শুরু। প্রতিযোগী দুইজন।এক নম্বরে অপু বিশ্বাস। আর দুই নম্বর প্রতিযোগী শবনম বুবলী।
আর পুরো ঘটনার মধ্যমণি যিনি, তিনি অবশ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না। তিনি তখন মালয়েশিয়ায় বসে ‘রকস্টার’-এর শুটিংয়ে ব্যস্ত। দুনিয়ার বুকে জন্মদিন মানে বিশ্রাম- এই ধারণাটি শাকিব খান এখনও আবিষ্কার করতে পারেননি।
নাচের ছবি পোস্ট করেন অপু বিশ্বাস।
রাত বারোটার কাঁটা স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল ‘হু ইজ দ্য ফাস্ট’ লড়াই।অপু বিশ্বাস তাঁর ফেসবুক স্টোরিতে একটি ভিডিও আপলোড করে দিলেন। সেখানে দেখা গেল, তিনি শাকিবের হাত ধরে নাচছেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ’। কোনো ক্যাপশন নেই। ইঙ্গিতময়ী বাংলা সিনেমার নায়িকাদের ঐতিহ্য বুঝি এখনও অটুট।

অপুর এই স্টোরি ভক্তদের হাতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল বুবলীর অনুসন্ধান।সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজারো মন্তব্য- বুবলী এখনো কিছু লিখছেন না কেন? উনি কি অফলাইনে? নাকি ইন্টারনেট প্যাকেজ ফুরিয়েছে?
এমন ভাবনায় বিকেল গড়াল।সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলতে শুরু করল। অবশেষে উত্তর এলো। বুবলী তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করে লিখলেন, ‘শুভ জন্মদিন’। ছবিতে শাকিব জড়িয়ে ধরেছেন তাঁদের সন্তান বীরকে। পারিবারিক, নরম, আবেগঘন- এক কথায় বুবলীর ট্রেডমার্ক স্টাইল।
বুবলীর পোস্ট করা শাকিব খানের ছবি।
কিন্তু ভক্তরা তো বুবলীর ছবি দেখার আগে ঘড়ি দেখেছেন। তাঁদের প্রশ্ন- ‘এতো দেরি কেন?আপনার সমস্যা কি?তাই বলে, এতো দেরি করে কেন আপা?’ মনে হচ্ছে, জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফেসবুক পুলিশ।
এদিকে, কে আগে জানালেন, সেই বিতর্কের মধ্যেই ‘রকস্টার’ সিনেমার ফার্স্টলুক এলো। শাকিব খান কালো চশমা, ট্যাটু, ক্যাজুয়াল লুকে- একদম ‘আমি নায়ক, আমার কোনো টেনশন নাই’ স্টাইলে। কয়েক ঘণ্টায় লাখের বেশি রিঅ্যাকশন। যেন ভক্তরা বললেন, ‘তোমরা দুজন স্ট্যাটাসযুদ্ধ করে যাও, আমরা শাকিবকে দেখতে থাকি।’
সংক্ষেপে গল্পটা দাঁড়ালো এই রকম- অপু জানালেন রাত ১২টা ১ মিনিটে। বুবলী জানালেন বিকেল ৩টায়। যুদ্ধ শেষ। পয়েন্ট টেবিল আপডেট। এখন অপেক্ষা শুধু এই প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্বের- ঈদুল আজহায় শাকিবের সিনেমা মুক্তি পাবে, সেখানে দুই নায়িকা থাকবেন সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা। তখন আবার নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হবে, কে কার সঙ্গে কতটা কেমিস্ট্রি দেখালেন।
তবে এই মুহূর্তে শুধু এটুকু বলা যায়- শাকিব খানের জন্মদিন মানে শুধু জন্মদিন নয়। এটি একটি মিনি-টেলিভিশন রিয়েলিটি শো, যেখানে দুজন নায়িকা অংশ নেন, আর পুরো জাতি বিচারকের আসনে বসে রায় দেন- কে আগে জানাল, কে পরে জানাল, কে বেশি আবেগ দেখাল, কে কম দেখাল।
শাকিব খান কালো চশমা, ট্যাটু, ক্যাজুয়াল লুকে- একদম ‘আমি নায়ক, আমার কোনো টেনশন নাই’ স্টাইলে।
আর শাকিব? তিনি শুটিং সেটে বসে হয়তো ভাবছেন, ‘আমার জন্মদিনে তো আমি একটু বিরতি পাব।’ না, বিরতি নেই। কারণ, বাংলাদেশের সুপারস্টার হওয়ার মানে এই না যে আপনি সিনেমার নায়ক। মানে হচ্ছে- আপনি আপনার জন্মদিনেও অন্যের স্ট্যাটাসযুদ্ধের নেপথ্য চরিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *