১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন সিটি ব্যাংকের

শেয়ার করুন

ছবি:সংগ্রহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসির ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এছাড়া যমুনা ব্যাংক পিএলসি ও ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির বন্ডের সম্মতিপত্রের মেয়াদ এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০০৭তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
কমিশন সভায় সিটি ব্যাংকের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সাত বছর মেয়াদি আনসিকিউরড, ফুললি পেইডআপ, ফুললি রিডিমেবল, কুপন বিয়ারিং সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে বন্ডটির কুপন রেট নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে রেফারেন্স রেট নির্ধারিত হবে প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকের ছয় মাসের ফিক্সড ডিপোজিটের সুদহারের উচ্চসীমার ছয় মাসের গড়ের ভিত্তিতে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, বিদেশী ব্যাংক এবং যেসব ব্যাংক ২০১২ সালের পরে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলোর সুদহার এক্ষেত্রে বিবেচ্য হবে না। বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ডের অনুকূলে ইস্যু করা হবে। বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে সিটি ব্যাংক করপোরেট, রিটেইল ও এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করবে। বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড দায়িত্ব পালন করবে এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৭৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ২ টাকা ৯৬ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৯ পয়সায়।
১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৯৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫২ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৬৯। এর ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ৪১, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৪ দশমিক ৮৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
যমুনা ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার নন-কনভার্টিবল, আনসিকিউরড, ফুললি রিডিমেবল, ফ্লোটিং রেট সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের সম্মতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানো-সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেষবারের মতো এ মেয়াদ আগমী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বন্ডটির মূল সম্মতিপত্রের অন্য সব শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
একইভাবে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ৫০০ কোটি টাকার আনসিকিউরড, নন-কনভার্টিবল, রিডিমেবল, ফ্লোটিং রেট সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড-৮-এর সম্মতিপত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেষবারের মতো এ মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও মূল সম্মতিপত্রের অন্য সব শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *