ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল এবং নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পাশাপাশি কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ সকালে তিন ট্রেনের আসতে কেন বিলম্ব হয়েছে, সে কারণও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেন রেলমন্ত্রী।
ট্রেন বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করেছে। রেললাইনের ওপর ধানের খড় শুকাতে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে ইঞ্জিন ও কর্মী পাঠিয়ে ট্রেন সচল করতে হয়েছে। এ কারণে দুই থেকে তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। একটি প্রায় ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হতে পারে।’
এ ঘটনায় পরদিনের শিডিউলে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি আজকের মধ্যেই পরিস্থিতি ম্যানেজ হয়ে যাবে। গতকাল যেটা হয়েছিল, সেটাও আমরা অনেকটা ঠিক করেছি। আজকের সমস্যার জন্য স্পেয়ার লোকোমোটিভ ও অতিরিক্ত সক্ষমতা সেখানে শিফট করা হয়েছে।’
ঈদযাত্রায় ট্রেনের যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা থাকে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার বাইরে যেতে চাওয়া মানুষের কাছে ট্রেনে যাত্রার আলাদা গুরুত্ব আছে। কিন্তু যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছেড়ে এখন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে। সেই ব্যবস্থাপনা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ।’
কমলাপুর স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি অনির্ধারিতভাবে স্টেশনে এসেছি। কোন ট্রেনে উঠব বা কখন আসব, সেটা আগে নির্ধারিত ছিল না। দুটি ট্রেনে উঠেছি। যাত্রীদের সন্তুষ্টি ও পরিবেশ আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে। যদিও যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় আমাদের ক্যাপাসিটির বাইরেও ২৫ শতাংশ টিকিট দিতে হয়েছে।’
রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের এখনো ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের পুরনো রেললাইন আছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো লোকোমোটিভ ও কোচ দিয়েই চলতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচ বাড়ানো সম্ভব হয়নি, এটা সত্য।’
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব জায়গায় দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছি।’
রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জায়গাজুড়ে খড় শুকাতে দেওয়া হয়। এগুলো সরাতে গেলে অনেক সময় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। আবার সব স্টেশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বা সুরক্ষিত নয়। প্রবেশ নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
এ সময় ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনে তিনটি ক্যাটল ট্রেন চালানো হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের সময় নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করেছি। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি লোকোমোটিভ সচল আছে। আরও এক-দুটি যুক্ত করতে পারলে ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ পরিচালনায় রাখা সম্ভব হবে। তাহলে যাত্রী পরিবহনে খুব বেশি সমস্যা হবে না, স্মুদলি যাত্রা করা যাবে।’
