প্রথম মুসলিম নার্স রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

শেয়ার করুন


ছবি -কালেক্টেড

ইসলামের ইতিহাসে নার্সিং সেবার পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া। সপ্তম শতকে মদিনায় মসজিদে নববীর আঙ্গিনায় একটি সাধারণ তাঁবুতে তিনি অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসা ও সেবা দিতেন। মাটির দেয়াল ও খেজুর গাছের উপকরণ দিয়ে তৈরি সেই অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রই ছিল তার সেবাকর্মের প্রধান স্থান।
রুফাইদাহ আহতদের ক্ষত পরিষ্কার করা, ব্যান্ডেজ করা এবং রোগীদের সেবাযত্নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। তবে তার কাজ শুধু চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি রোগীদের প্রতি সহানুভূতি ও মমতাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাদের মনে সাহস ও আশার সঞ্চার করতেন। তার এই মানবিক সেবার জন্য ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার কাজকে যোদ্ধাদের অবদানের সমতুল্য মর্যাদা দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, রুফাইদাহ খাজরাজ গোত্রের বনু আসলাম শাখার সদস্য ছিলেন এবং আনুমানিক ৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইয়াসরিব শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যা পরে মদিনা নামে পরিচিতি পায়। তার বাবা সাদ আল-আসলামি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সার্জন। বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রুফাইদাহ চিকিৎসা ও সেবাশুশ্রূষায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
ইসলামের ইতিহাসে রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়াকে শুধু প্রথম মুসলিম নার্সই নয়, বরং নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের পথিকৃৎ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। মানবসেবার প্রতি তার অবদান আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *