চীন থেকে কী নিয়ে ফিরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

শেয়ার করুন

এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি:এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। তিন দিনের এই সফরে তিনি একাধিক বাণিজ্য চুক্তির কথা তুলে ধরলেও তাইওয়ান ও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে কী নিয়ে ফিরেছেন তিনি?

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। সফরজুড়ে ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। শিশুদের অভ্যর্থনা, সামরিক গার্ড অব অনার, সাবেক সম্রাটদের গোপন উদ্যান পরিদর্শন এবং ১৫শ শতকের কনফুসিয়াস মন্দির ‘টেম্পল অব হেভেন’ ভ্রমণ ছিল সফরের উল্লেখযোগ্য অংশ। সফর শেষে ওয়াশিংটন ও বেইজিং দুই পক্ষই এটিকে সফল হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে উভয়ের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা গেছে।

কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীন থেকে ফেরার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প আকাশেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে আলোচনা করেছি। শি বলেছেন, বেইজিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধী। আমি তার বক্তব্য শুনেছি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করিনি। কোনো প্রতিশ্রুতিও দিইনি।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর পর শি জিনপিং তাইওয়ানকে ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেন। শি বলেন, এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি দ্বন্দ্বেও যেতে পারে। এতে পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে যাবে।

গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এ ধরনের বিক্রির পক্ষে জোরালো সমর্থন থাকলেও বেইজিং এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ওয়াশিংটন বহু বছর ধরে দ্বীপটিকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ের দাবি স্বীকার করলেও তাইওয়ানের ওপর চীনের সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করে না। মার্কিন আইনপ্রণেতারা তাইপের জন্য বড় ধরনের নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সেটি কার্যকর করতে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমি নেব। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সাড়ে ৯ হাজার কিলোমিটার দূরে আরেকটি যুদ্ধে জড়াক, সেটা আমরা চাই না।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার জানিয়েছেন, আঞ্চলিক ঝুঁকি বাড়তে থাকায় তাইপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ও শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা বেইজিংকে তেহরানের ওপর তাদের প্রভাব খাটিয়ে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অচলাবস্থা কাটাতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সফর চলাকালে ট্রাম্প বিষয়টিকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরেন। চীন সফর শেষে হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির ঘোষণা দেয়নি।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে আমি কোনো অনুগ্রহ চাইছি না।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান সংকট নিয়ে চীনের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়, যাতে পারমাণবিক ইস্যুসহ সব বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা যায়। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পক্ষেও আমরা।

বাণিজ্য চুক্তির দাবি শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সফর করা ট্রাম্প সফর শেষে কয়েকটি ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তির’ দাবি করেন। শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২০০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এটি হলে এক দশকেরও বেশি সময় পর চীনের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমান কেনার চুক্তি হবে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, চীন শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল ও কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করতে পারে। তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চীনও এ বিষয়ে অনেক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সফর নিয়ে চীনের সরকারি বিবৃতিতে নতুন কোনো চুক্তির উল্লেখ ছিল না।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং শুক্রবার বলেন, দুই দেশ একটি বাণিজ্য কাউন্সিল ও একটি বিনিয়োগ কাউন্সিল গঠনে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি শুল্ক সমন্বয় ও কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প জানান, গত অক্টোবরে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি যেখানে ওয়াশিংটন চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছিল এবং বেইজিং পাল্টা বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়েছিল; তা বাড়ানো হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ট্রাম্প বলেন, আমরা শুল্ক নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *