প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের পরামর্শ ইউজিসি চেয়ারম্যানের

শেয়ার করুন

ছবি ;সংগৃহীত

দেশের সামাজিক সমস্যা সমাধানে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ এবং ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী আয়োজিত ৬ষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। তবে জেনারেটিভ এআই-এর দ্রুত বিকাশ যেমন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে, তেমনি কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও ডেটা নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
তিনি বলেন, তরুণ বিজ্ঞানীরা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিশাল জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) বাংলাদেশের জন্য এক অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এই বিপুল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে তারা দেশের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
তিনি তরুণ বিজ্ঞানীদের প্রতি তিনটি বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমত, কেবল তাত্ত্বিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে হবে—বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক স্টার্টআপ খাতে।
দ্বিতীয়ত, দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে প্রেক্ষিতভিত্তিক এআই উন্নয়ন করতে হবে, যাতে প্রযুক্তি বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তৃতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ডেটা নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য এআই-এর যৌক্তিক ব্যবহার এবং মানবিক সৃজনশীলতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইউজিসি গবেষণা ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। তিনি ইউজিসি পরিচালিত হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্প, ‘ইম্প্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন (আইসিএসইটিইপি) প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের সুবিধাগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার করার জন্য গবেষক ‍ও বিজ্ঞানীদের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, একাডেমীর সচিব প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবির, সম্মেলন আয়োজক কমিটির চেয়ারপার্সন ও সচিব মেজর জেনারেল (অব) প্রফেসর ড. এএসএম মতিউর রহমান এবং প্রফেসর ড. লিয়াকত আলী।
এবারের সম্মেলনে প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ইয়াং সাইন্টিস্ট ফর আর্টিফিশিয়াল ইনটিলিজেন্স’। এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে তিন শতাধিক তরুণ বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করছেন। তারা পদার্থ, রসায়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ, কৃষি, জীব বিজ্ঞান, গণিত, ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সাইন্স, হেলথ, নিউট্রিশন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সাইন্স বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
সম্মেলনে থিম স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের প্রফেসর ড. এহসান হক, অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এ আই এন্ড ডিজিটাল হেলথ টেকনোলজির প্রফেসর ড. টারজিমা হাশেম এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রফেসর ড. হাসান সারওয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *