এম. এ. রশিদ
ছবি :সকালের নিউজ।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সড়কপথে যানজটের শঙ্কা এড়িয়ে অনেকেই ট্রেনকে বেছে নেওয়ায় দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে অতীতের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। যদিও অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন ও তেজগাঁও রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছিল ব্যাগ, লাগেজ আর শিশুদের কোলাহল। তবে অতীতের মতো অতিরিক্ত ভিড়, টিকিট নিয়ে বিশৃঙ্খলা কিংবা ধাক্কাধাক্কির চিত্র ছিল তুলনামূলক কম।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন অতিরিক্ত সংখ্যক যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার পাশাপাশি কিছু ট্রেনের বগিও বাড়ানো হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা এবং ব্যস্ত রুটে ট্রেন চলাচলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সময়সূচিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
কমলাপুর স্টেশনের তথ্য বোর্ডে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলছে। বিশেষ করে দীর্ঘ রুটের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, একটি ট্রেন দেরিতে ছাড়লে পরবর্তী ট্রেনগুলোর সময়সূচিতেও প্রভাব পড়ে। এছাড়া কোথাও কোথাও সিগন্যাল জট ও একক লাইনে ট্রেন চলাচলের কারণেও বিলম্ব হচ্ছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তারা।
ঈদযাত্রায় ট্রেনকে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে মনে করছেন অনেক যাত্রী। রাজশাহীগামী এক যাত্রী বলেন, “ট্রেন কিছুটা দেরি করছে ঠিক আছে, কিন্তু বাসের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে না। পরিবার নিয়ে আরামে যেতে পারছি।”
আরেক যাত্রী জানান, অনলাইনে টিকিট পাওয়ায় এবার ভোগান্তি কম হয়েছে। স্টেশনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে রেলওয়ে পুলিশ ও র্যাব। টিকিট ছাড়া যাত্রী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং যাত্রীসেবায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। স্টেশনে মেডিকেল টিম ও সহায়তা ডেস্কও রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী কয়েক দিনের বাড়তি চাপ সফলভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে এবং যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন।
