এম এ রশিদ
ঈদুল ফিতর মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছরই রাজধানী ঢাকা ও বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ ছুটে যান নিজ নিজ গ্রামে, প্রিয়জনের কাছে। দীর্ঘদিন ধরেই ঈদযাত্রা মানেই ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, ট্রেনের টিকিটের সংকট, নৌপথে অতিরিক্ত ভিড় এবং নানা ভোগান্তি। তবে এবার সেই চিরচেনা ভোগান্তির চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে তুলনামূলক স্বস্তির ঈদযাত্রা উপভোগ করছেন।
এবার ঈদকে সামনে রেখে সরকারের আগাম প্রস্তুতি, মহাসড়কের উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তৎপরতার কারণে যাত্রাপথে শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট কম থাকায় যাত্রীরা স্বল্প সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়ন হয়েছে। একাধিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়া, গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালুর ফলে সড়কপথে যাতায়াত সহজ হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রার চাপ থাকলেও তা সামাল দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হচ্ছে।
এদিকে সড়কপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কগুলোতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, টোলপ্লাজা এবং বাস টার্মিনালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
রেলপথেও এবারের ঈদযাত্রায় দেখা যাচ্ছে স্বস্তির চিত্র। আগাম টিকিট বিক্রি এবং অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার কারণে যাত্রীরা সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা এবং সময়মতো ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ যাত্রীদের স্বস্তি বাড়িয়েছে। স্টেশনগুলোতেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য নৌপথ এখনো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। ঈদ উপলক্ষে লঞ্চঘাটগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়লেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি তৎপরতার কারণে যাত্রীরা তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশে যাতায়াত করতে পারছেন। অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে নজরদারি এবং লঞ্চ চলাচলে সময়সূচি মেনে চলার বিষয়েও কঠোরতা দেখা গেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারও যাত্রাপথকে সহজ করে তুলেছে।
রাজধানী থেকে বাড়ি ফেরা অনেক যাত্রীর মুখেই এবার স্বস্তির কথা শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, আগের মতো দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। এতে করে ঈদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে গেছে।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। অতীতের ভোগান্তির স্মৃতি পেছনে ফেলে মানুষ এখন আনন্দ ও স্বস্তি নিয়ে ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পথে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারার এই মুহূর্তই যেন এবারের ঈদযাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।