হামের টিকাদান কর্মসূচিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান

শেয়ার করুন

ছবি :সংগৃহীত

হামের টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করতে তরুণ প্রজন্ম ও অংশীজনদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, চলমান হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শুধু জরুরি ক্যাম্পেইন নয়, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা জরুরি।
সোমবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তরুণ প্রজন্ম ও অংশীজনদের সমন্বিত কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় এবং হামের প্রকোপ মোকাবিলা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। সভার আয়োজন করে ইপিআই, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ. টি. এম. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অটিজম সেলের মহাপরিচালক মো. মহসীন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আইভিডি টিম লিড ডা. সুধির যোশি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই ও সার্ভিল্যান্স শাখার মেডিকেল অফিসার ডা. রাজীব সরকার। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

আলোচনায় জানানো হয়, বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। পোলিও ও ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল, হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ৯টি অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ১২টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এইচপিভি (আইচপিভি) ও টিসিভি (টিসিভি) টিকাও যুক্ত হয়েছে এবং এসব টিকায় উচ্চ কভারেজ অর্জিত হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের চলমান হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাব টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি নতুন করে সামনে এনেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ২৯ হাজার ৫৪৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী, ৪ হাজার ২৩১ জন নিশ্চিত রোগী এবং ১৯৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটিকে জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু; বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই টিকাবঞ্চিত বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত, যা জনসংখ্যায় ইমিউনিটির ঘাটতি নির্দেশ করে। এ পরিস্থিতিতে ৫ এপ্রিল থেকে ৬–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে জরুরি এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। পাশাপাশি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম সক্রিয় করা, বিশেষ চিকিৎসা কর্নার স্থাপন, নজরদারি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আলোচকরা বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে দুই ডোজ এমআর টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা জরুরি। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, টিকাদান বিষয়ে গুজব প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার পর্যায়ে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ অফিসার ডা. ফারহানা রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। এতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *