বিদ্যুৎ ছাড়াই চলছে পাম্প

শেয়ার করুন

রাজশাহীর,তানোর, সরজমিন ঘুরে -এম. এ. রশিদ

বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ঝামেলা ছাড়াই সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা, কমছে খরছে বাড়ছে উৎপাদনের আশা।

রাজশাহী জেলার, তানোর উপজেলার, কুজিসহর গ্রামে, সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে চালানো হচ্ছে সেচ পাম্প। বিদ্যুৎ বা ডিজেলের উপর নির্ভরতা ছাড়াই সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কুজিসহর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ধানক্ষেতের পাশে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। প্যানেলগুলো সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরাসরি সেচ পাম্প চালাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে সেচের জন্য বিদ্যুৎ না থাকলে কিংবা ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। অনেক সময় সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হতো না। কিন্তু সোলার পাম্প চালু হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে।
কুজিসহর গ্রামের এক কৃষক বলেন, আগে ডিজেল পাম্প চালাতে অনেক টাকা খরচ হতো। এখন সূর্যের আলো থাকলেই পাম্প চলে। এতে আমাদের খরচ কমেছে এবং জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে। ০১ ঘন্টায় সোলার পাম্প থেকে  ১০ থেকে ১২  বিঘা জমিতে পানির সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোলার সেচ পাম্প কৃষকদের জন্য একটি টেকসই সমাধান। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমছে, অন্যদিকে পরিবেশও রক্ষা পাচ্ছে।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে সোলার সেচ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা কম খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্রামাঞ্চলে যদি আরও বেশি সোলার সেচ পাম্প স্থাপন করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে কৃষি খাত হবে আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব।
গ্রামবাংলার মাঠে সূর্যের আলোয় চলা এই সেচ পাম্প যেন নতুন করে আশা দেখাচ্ছে কৃষকদের। প্রযুক্তির এই ব্যবহার কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *