ছবি: সকালের নিউজ।
বাজারে উঠেছে প্রচুর পরিমাণে পাকা আম। এ মুহূর্তে বাজারে নানা জাতের পাকা আমের ছড়াছড়ি। হিমসাগর, ল্যাংড়া ও ফজলি থেকে শুরু করে প্রায় সব জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। আমপ্রেমীদের জন্য এটি যেন বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময়। তবে আম কিনতে গিয়ে অনেকের মনেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— এই আম কি সত্যিই নিরাপদ, কোনো কীটিনাশকের বালাই নেই তো?
বর্তমানে আম দ্রুত পাকাতে কিংবা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ও কৃত্রিম কার্বাইড ব্যবহার করে থাকে, যা শুধু আমের স্বাদই নষ্ট করে না; বরং স্বাস্থ্যের জন্যও হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ।
তাই আপনি চাইলে বাজার থেকে কেনা আমে ক্ষতিকারক কীটনাশক বা কেমিক্যাল রয়েছে কিনা তা ঘরে বসেই সহজ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করতে পারেন। ফরমালিনমুক্ত আম পেতে ঘরেই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। কারণ অতিরিক্ত কীটনাশকযুক্ত আম খেলে লিভারের ক্ষতি, তীব্র মাইগ্রেন এবং পেটের রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষাক্ত কীটনাশকযুক্ত আম নিয়মিত খেলে পেটের রোগ, লিভারের ক্ষতি, তীব্র মাইগ্রেন— এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে ভয় পেয়ে আম খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। আর কিছু সহজ পদ্ধতি জানলেই ঘরে বসে জেনে নেওয়া সম্ভব আমটি নিরাপদ কিনা। আমে কীটনাশক আছে কিনা।
আম কেনার আগে তার খোসা ভালো করে দেখে নিন। আমের খোসার ওপর এক ধরনের সাদাটে, পাউডারের মতো বা ধূসর রঙের ছোপ ছোপ আস্তরণ জমে রয়েছে কিনা। যদি দেখে থাকেন, তবে বুঝবেন সেটিতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের খোসা সাধারণত মসৃণ ও চকচকে হয় এবং তাতে কোনো রাসায়নিক পাউডারের অবশিষ্টাংশ থাকে না।
আর কীটনাশকযুক্ত আম কাটলে ভেতরের শাঁস বা পাল্পের রঙে তফাত দেখা যায়। আমের বাইরের অংশ পুরো হলুদ, কিন্তু কাটার পর দেখা যায়, ভেতরের অংশ সাদাটে বা হালকা হলুদ রয়েছে। এই আম মুখে দিলে মিষ্টি স্বাদের চেয়েও জিভে একটা হালকা জ্বালাপোড়া বা কষায় ভাব অনুভূত হতে পারে, যা রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ।
এ ছাড়া আম তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত কিনা তা আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুকলে বোঝা যায়। একটি মিষ্টি, তীব্র ও চনমনে সুগন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু যে আমে অতিরিক্ত কীটনাশক বা ক্যামিক্যাল রয়েছে, সেই আমের বোঁটার কাছ থেকে কোনো সুগন্ধ বের হয় না। বরং অনেক সময় ঝাঁজালো রাসায়নিক বা ওষুধের মতো এক ধরনের কটু গন্ধ পাওয়া যায়।
আর বাজার থেকে আম কিনে এনেই একটি বড় বালতিতে পানি নিয়ে আমগুলো তাতে ছেড়ে দিন। যদি দেখেন আমগুলো বালতির পানিতে ডুবে গেছে, তবে নিশ্চিন্ত থাকুন— সেগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকা ও নিরাপদ। কিন্তু আমগুলো যদি পানির ওপরে ভেসে থাকে, তবে বুঝবেন সেগুলোতে কার্বাইড বা ভারি কীটনাশক দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে এবং সেগুলোর ভেতরে প্রাকৃতিক রস শুকিয়ে ফাঁপা হয়ে গেছে।
কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম দেখতে অত্যন্ত লোভনীয় ও নিখুঁত হয়। পুরো আমটিই এক গাঢ় হলুদ রঙে সেজে থাকে, কোথাও কোনো সবুজ ভাব থাকে না। এমনকি ফ্রেস থাকে। প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা আমের রঙে একটা অসমন্বয় থাকে। গাছের আম সম্পূর্ণ এক রঙের হয় না। তার কিছু অংশ হলুদ হলে, কিছু অংশে হালকা সবুজ বা লালচে ভাব বজায় থাকে। অতিরিক্ত নিখুঁত হলুদ আম দেখলেই সাবধান হোন।
