সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এটুআই

শেয়ার করুন

অগ্রাধিকার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রযুক্তিনির্ভর, নাগরিককেন্দ্রিক ও ফলাফলভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এটুআই সরকারি সেবাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করার যে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, তা এখন সরকারের বৃহত্তর ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের ইশতেহারে জবাবদিহি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ঘুষ ও দুর্নীতি হ্রাস, নাগরিক ভোগান্তি কমানো, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, বিচারপ্রাপ্তির সহজীকরণ এবং ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার সঙ্গে এটুআই কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন সিস্টেম/প্ল্যাটফর্ম এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সুদক্ষ কারিগরি পরামর্শকদের নিরলস পরিশ্রমের দ্বারা নীতিগত অঙ্গীকারকে বাস্তব সেবায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এটুআই এর সুদীর্ঘ পথচলাও এক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে।
এ বিষয়ে এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাঃ আব্দুর রফিক বলেন, “সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি বাস্তবায়নে এটুআই কেবল একটি প্রযুক্তি-সহায়ক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং নীতি প্রণয়ন, উদ্ভাবন, নাগরিকবান্ধব সেবা ডিজাইন, তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণ, নাগরিক অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার অন্যতম হাতিয়ার। ফ্যামিলি কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে এটুআই যেভাবে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে, তা এখন সুশাসন, কর্মসংস্থান, বিচার, স্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বহু খাতে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।”
জানা যায়, এটুআই এর উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারি ও নাগরিক সেবা (G2G ও G2C) প্রদানের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এটুআইয়ের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাইগভ প্ল্যাটফর্ম নাগরিকদের অনলাইনে সরকারি সেবার আবেদন, আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ, নোটিফিকেশন গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৩৩৩ তথ্য, অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় রেফারেলের মাধ্যমে এমন মানুষের কাছেও সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, যারা সরাসরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন না। ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্ক সরকারি দপ্তর ও সেবার তথ্য এক জায়গায় উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন করে স্বচ্ছতা বাড়াচ্ছে, আর নথি ব্যবস্থার মাধ্যমে দাপ্তরিক ফাইল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে অনুসরণযোগ্য হওয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব এবং অদৃশ্য বাধা সৃষ্টির সুযোগ কমছে।
একই সঙ্গে সেবা সহজিকরণ উদ্যোগ সেবার ধাপ কমানো, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্তি বাদ দেওয়া এবং নাগরিকের সময় ও ভোগান্তি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রিপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নিয়মিত ফলাফলভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে জবাবদিহি প্রক্রিয়া শক্তিশালী করছে। এছাড়া ডিজিটাল সেন্টার, এক্সপ্যাট্রিয়েট সেন্টার এবং স্কিলস ফিউশন সেন্টার-এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল, প্রবাসমুখী জনগোষ্ঠী ও তরুণদের জন্য ডিজিটাল সেবা সহায়তা, নিরাপদ প্রবাস সংক্রান্ত তথ্য এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন সরকারি দপ্তরে নতুনভাবে কাজ করার সংস্কৃতি, বাস্তব সমস্যার দ্রুত সমাধান, উদ্ভাবনী ধারণার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং সফল উদ্যোগের সম্প্রসারণে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে।
এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতিহারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইলেকশন ম্যানিফেস্টো ট্র্যাকার ডেভেলপ এর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্যবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকেরা কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও কৃষক কার্ড–সংক্রান্ত তথ্যসেবা প্রদানের জন্য জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ এবং পেমেন্ট গেটওয়ে একপে-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রুরাল ডিজিটাল সেন্টার ওয়ার্ড পর্যায়ে চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সেবা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এটুআই বিভিন্ন সিস্টেম ডেভেলপমেন্টে বেসরকারি খাতের ভেন্ডরদের সহযোগিতায় কাজ করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে টার্মস অব রেফারেন্সের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সফটওয়্যারের সোর্স কোডের মালিকানা এটুআই-এর কাছে থাকত না, ফলে ভেন্ডর নির্ভরতা বা ‘ভেন্ডর লক’-এর মতো জটিলতা তৈরি হতো। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এটুআই এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আইসিটি ডিভিশনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে সরকারের অন্যান্য ডিজিটাল সিস্টেমকেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার পথ তৈরি হয়েছে, ফলে এখন এসব সেবা আরও সহজে হালনাগাদ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, সমন্বিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনে এটুআইয়ের ভূমিকা ইতোমধ্যেই সুস্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন এটুআইয়ের চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ই-হেলথ কার্যক্রমে ধারণা প্রণয়ন থেকে সিস্টেম উন্নয়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এটুআই সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের ধারণা, নকশা, তথ্য কাঠামো ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা প্রণয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ করে ডেটা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং একটি সমন্বিত সোশ্যাল রেজিস্ট্রি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটুআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কর্মসংস্থান, দক্ষতা ও শিক্ষা খাতেও এটুআইয়ের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারের “স্কিল থেকে চাকরি” ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ফর স্কিলস, এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট (নাইস) প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে ভবিষ্যতমূখী দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের একটি সুসংহত কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। মুক্তপাঠ প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও, এআই-ডেটা, সেমি কন্ডাক্টর এবং ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ খাতে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাইস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তিখাতে প্রশিক্ষণ প্রদানে সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করছে মুক্তপাঠ, শিক্ষক পোর্টাল এবং ডেটা অ্যান্ড রিসার্চ। মুক্তপাঠের মাধ্যমে বড় পরিসরে অনলাইন শিক্ষাবিষয়ক কনটেন্ট দেয়া যাচ্ছে, শিক্ষক পোর্টাল শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল শিখণপদ্ধতি শক্তিশালী করছে, আর ডেটা অ্যান্ড রিসার্চ কোন কোর্স কার্যকর হচ্ছে এবং কোথায় ঝরে পড়ার হার বেশি এসব বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা দিচ্ছে। দক্ষতার মানদণ্ড নির্ধারণ, যাচাইযোগ্য সার্টিফিকেশন, নিয়োগদাতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জেলা-ভিত্তিক ড্যাশবোর্ড তৈরির পরিকল্পনা এটুআইয়ের এই কার্যক্রমকে আরও বাস্তবমুখী করেছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি আয়ত্ত্বকরণ ও অভিযোজনের ক্ষেত্রেও এটুআইয়ের ভূমিকা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। “সার্ভিসড ইন বাংলাদেশ” এবং “মেইড ইন বাংলাদেশ” লক্ষ্য সামনে রেখে এটুআই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করে সম্ভাবনাময় নতুন ৫টি দেশে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও অ্যাপস রেপ্লিকেশনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে ডিভাইস ও ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অন্তত ১০টি দেশীয় উদ্ভাবন চিহ্নিত করে শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ ও রপ্তানির পথ সুগম করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল সক্ষমতার পরিচিতি বাড়বে, একই সঙ্গে বৈদেশিক প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উদ্ভাবন প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।
ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটুআই উল্লেখযোগ্য সহায়তা দিচ্ছে। একপে প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে পেপ্যাল-সহ আন্তর্জাতিক গেটওয়ের সঙ্গে সমঝোতা এবং এপিআই-ভিত্তিক সংযুক্তির উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি তৈরি করতে পারে। এর ফলে বিদেশি আয় দেশে আনা, বিল, ফি ও কর পরিশোধ, এবং দৈনন্দিন ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
জাতীয় উন্নয়নকে আরও উদ্ভাবননির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নাগরিককেন্দ্রিক করতে এটুআই বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইনোভেশন হাব, জাতীয় ইনোভেশন রিপোজিটরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আর্থিক সহায়তা, জাতীয় সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ফান্ড, নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক ই-পার্টিসিপেশন প্ল্যাটফর্ম, সেবার মান যাচাইয়ে সিটিজেন ড্যাশবোর্ড, গ্রিভেন্স রিড্রেস অ্যাপ, সিঙ্গেল-উইন্ডো ই-সার্ভিস পোর্টাল এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য ডিজিটাল সেবা, অ্যাক্সেসিবিলিটি অডিট ও সহায়ক প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এমন একটি শাসন ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে উদ্ভাবন, জবাবদিহি, অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সবার জন্য সমান প্রবেশগম্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিচার ও আদালতকে নাগরিকবান্ধব করার ক্ষেত্রেও এটুআইয়ের অবদান প্রশংসনীয়। ই-কোর্ট, ই-কজলিস্ট, জুডিশিয়াল পোর্টাল এবং মাইকোর্ট মোবাইল অ্যাপ এসব উদ্যোগ মামলার তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা, শুনানির সময়সূচি জানানো, আদালতের নিয়ম, ফরম ও নির্দেশনা এক জায়গায় দেওয়া এবং মোবাইলের মাধ্যমে মামলাসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পৌঁছে দিয়ে বিচারসেবাকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে। এটুআই এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, আদালতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডেটা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহির জন্য ড্যাশবোর্ড চালুর মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ডেটা, ড্যাশবোর্ড ও ফলাফলভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণ সংশ্লিষ্ট এটুআই এর উদ্যোগগুলোও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ন্যাশনাল ড্যাশবোর্ড এর মাধ্যমে সেবা প্রদানের সময়, নিষ্পত্তির হার, অভিযোগ সমাধান এবং জেলা-ভিত্তিক পারফরম্যান্স দৃশ্যমান করবে; এসডিজি ট্র্যাকার সরকারি ফলাফলকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করবে; গ্লোবাল ইনডেক্স আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের অবস্থান উন্নয়নের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করবে; এবং ওপেন গভর্নমেন্ট ডেটা নীতিমালাভিত্তিক তথ্য উন্মুক্তকরণ গবেষণা, নাগরিক নজরদারি ও জনআস্থা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি ডেটা গভর্ন্যান্স ও ডেটা লিডারশিপের মাধ্যমে কে ডেটা সংরক্ষণ করবে, কে তা ব্যবহার করবে, কীভাবে নিরাপদে শেয়ার করা হবে এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।
সড়ক ও যোগাযোগ খাতে এটুআইয়ের ডি-টোল উদ্যোগ ইতোমধ্যেই একটি কার্যকর উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয় টোল পরিশোধের ফলে লাইন কমছে, সময় সাশ্রয় হচ্ছে, নগদ লেনদেন হ্রাস পাচ্ছে এবং টোল আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়ছে। ফলে ট্রাফিক জ্যাম হ্রাসের পাশাপাশি নাগরিকের জ্বালানীও সাশ্রয় হচ্ছে। এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে একপে-ভিত্তিক একীভূত পেমেন্ট, প্রতিটি লেনদেনের লগ ও অডিট ট্রেইল, সহজ নিবন্ধন, রিচার্জ ও নোটিফিকেশন ব্যবস্থা, ৩৩৩ কল সেন্টারের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি, এবং ন্যাশনাল ড্যাশবোর্ডে রিয়েল-টাইম সূচক প্রদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, সরকারের অঙ্গীকারকে নাগরিকের হাতে বাস্তব সেবা হিসেবে পৌঁছে দিতে এটুআই একটি দূরদর্শী, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য সহযাত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার যে ধারাবাহিক প্রয়াস এটুআই চালিয়ে যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর তথা সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *