জান্নাতি মহিলার প্রতীকী ছবি
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ ফরমান,
“আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী মহিলা সম্পর্কে বলে দেব না?” সাহাবীরা বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহ্র রাসূল (সা.)! জান্নাতী মহিলার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, স্বামীর প্রতি প্রেমাস্পদ, অধিক সন্তান জন্মদাত্রী জান্নাতী।
যখন সে রাগান্বিত হয় বা তাকে গালমন্দ করা হয় অথবা তার স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হলে তখন সে মহিলা স্বামীকে বলে—
“আমার হাত আপনার হাতের উপর। আমার প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি শয়ন করব না।”
(তারগীব ৩/৩৭)
উল্লেখিত হাদীসে জান্নাতী মহিলাদের গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং যে সমস্ত মহিলাদের মধ্যে উল্লেখিত গুণাগুণ বিদ্যমান তারা জান্নাতে যাবে।
বর্ণিত হাদীসে “ওয়াদুদুন” শব্দের অর্থ স্বামীর প্রতি অতি প্রেমাস্পদ মহিলা। স্বামীর সামান্য অসন্তুষ্টি স্ত্রীকে ব্যাকুল করে তোলে। তার মন ছটফট করে এবং তার মধ্যে অশান্তি উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
স্বামীকে অসন্তুষ্ট রেখে যে নারী স্বল্প সময়ের জন্যও দূরে সরে যায় না। স্বামীর প্রতি ভালবাসা ও প্রেমের টান থাকলে স্ত্রী অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে না এবং গভীর ভালবাসার কারণে স্বামীর পক্ষ থেকে তার জন্য কোন কষ্ট বা এরকম কিছু প্রকাশ পেতে পারে না। ভালবাসা প্রবল হলে তিক্ত কথাবার্তাও মধুময় মনে হয়। প্রকৃত ভালবাসার কারণে মাহবুবের পক্ষ থেকে যে কোন কষ্ট মোটেই অনুভূত হয় না।
এর ফলশ্রুতিতে কোন কষ্টই কষ্ট বলে মনে হয় না, যাবতীয় কাজ যথানিয়মে ও সুচারুভাবে পরিচালিত হয়। সংসারে আসে অনাবিল সুখ শান্তি।
এ সমস্ত বিষয়াদি আজ যেন হারিয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মধুর সম্পর্ক না থাকার কারণে অল্প কথাই অন্তরে পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। একজন ভদ্র ঘরের মহিলা যখন স্বামীর নিকট প্রেম নিবেদন করে তখন কঠিন অন্তরের স্বামীও তাকে ভালো না বেসে পারে না এবং তার প্রেমে সাড়া না দিয়ে পারে না। এদিকে স্বামীও ভালবাসা হেতু অনুপযোগী কাজও গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করে না।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি টান থাকার কারণে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তাদের কষ্ট হয় না। সকল কাজ পেছনে রেখে ভালবাসাকেই তারা অগ্রাধিকার দেয়। যে কারণে সংসার হয়ে উঠে স্বর্গতুল্য।
জান্নাতী মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী
কিছু কথা—বর্তমান সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব। সামান্য বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, অহংকার এবং একে অপরকে দোষারোপ করার প্রবণতা সংসারের শান্তি নষ্ট করে দেয়।
একজন আদর্শ স্ত্রী কখনোই স্বামীর অবাধ্য হয় না। স্বামীর সামান্য অসন্তুষ্টিও তাকে ব্যথিত করে তোলে। তাই সে সব সময় চেষ্টা করে স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জন করতে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, স্বামী সন্তুষ্ট থাকলে স্ত্রী জান্নাত লাভ করতে পারে।
আদর্শ স্ত্রীলোকের বৈশিষ্ট্য
কোন কারণে স্বামী যদি স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে যায় তবে স্ত্রীর উচিত হবে তাকে রাগিয়ে না রেখে ভালবাসা দেখিয়ে বলা-
“আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না।”
আসল আদর্শ গৃহিণী সেই নারী, যে স্বামীর প্রতি অনুগত থাকে, তার সেবা করে এবং সংসারের শান্তি বজায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে বলা হয়েছে।
আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী মহিলা সম্পর্কে বলব না? যে নারী অধিক স্নেহশীলা, অধিক সন্তান জন্মদাত্রী এবং স্বামীর প্রতি অতিশয় অনুগত।