
ছবি :সংগৃহীত
জিরো টলারেন্সের নীতি অনুসরনের ঘোষণা দিয়েছেন মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নবাগত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেছেন ‘এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য সহ্য করা হবে না। পুলিশ সদস্যদেরও ছাড় দেয়া হবে না। এটাতে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নগরবাসীকে চাঁদাবাজমুক্ত নগর এবং মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দেয়া আমাদের মূল লক্ষ্য।’
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল দুপুর ২টায় দামপাড়া সিএমপির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে তিনি এ কথা বলেন।
সিএমপির কমিশনার বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী চট্টগ্রামে নিরাপত্তায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখেই আমরা মনে করি যে, এই নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থির রাখা শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের সাথে এটি সরাসরি সম্পৃক্ত।’
হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘চুরি-ছিনতাই অন্যান্য যে অপরাধ আছে সেসব অপরাধ দমনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালত হবে। আমরা একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নেব এবং এর মাধ্যমে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব নগরীকে অপরাধমুক্ত রাখার। নগরবাসী যেন নিরাপত্তা অনুভূতি নিয়ে চলাফেরা করতে পারেন সেই পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করব ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘যেটি প্রথমে বলেছি চাঁদাবাজ এবং মাদক দুটোতেই একবারেই জিরো টলারেন্স। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধ করতে আমাদের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীকে যানজটমুক্ত এবং নগরবাসীকে যানজটমুক্ত নগর উপহার দেয়ার জন্য আমাদের ট্রাফিক বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এটি অব্যাহত রাখব।’
অপরাধ দমন এবং সুন্দর নগরজীবন নগরবাসীকে উপহার দেয়ার জন্য পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি নগরবাসী ও সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার কামনা করেন তিনি।
এতে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেসনস) মো. রইছ উদ্দিনসহ উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল ৩৪তম কমিশনার হিসেবে সিএমপিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মো. শওকত আলী।
তিনি ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া, হাইতি ও মালিতে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সিএমপিতে যোগদানের পূর্বে তিনি ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশে ডিআইজি (লজিস্টিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।